শিরোনামঃ

জুড়ীতে কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। বিপাকে শ্রমজীবীরা। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে জেলায় জেলায় চলছে লকডাউন। বাহিরের জেলার সাথে মৌলভীবাজার জেলার যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করা হয়েছে। একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন যাপন চলছে। কর্ম না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। ঘরে বন্দী থেকে তারা এখন অসহায়। এ বন্দীদশা থেকে কবে মিলবে মুক্তি কেউ বলতে পারছে না।

এরইমধ্যে ইরি-বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে পড়েছে। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনা আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান কাটা মাড়াইয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ ও কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হাকালুকি হাওর পারের কৃষক ইউসুফ মিয়ার ২বিঘা জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন সচেতনরা।

ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে ধান কেটে দেয়ায় কৃষক ইউসুফ মিয়া আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকাধান কাটতে পারছিলাম না। এলাকায় যে পরিমাণ শ্রমিক আছে মজুরি বেশি। আকাশের অবস্থা মাঝে মধ্যে খারাপ হচ্ছে। ঝড় হলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই বাধ্যহয়ে ছাত্রলীগের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তারাও কোন টাকা পয়সা ছাড়াই ধান কেটে দিতে রাজী হন। ছাত্রলীগের ছেলেরা যেভাবে আমার ধান কাটতে সাহায্য করেছে তা ভোলার নয়। কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন সাবেল, সাধারন সম্পাদক ইকবাল ভুইয়া উজ্জ্বল, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশফাক আদনান, সাধারন সম্পাদক গৌতম দাস বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় বিপাকে কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি সরকারের পরিবেশ-বন-জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী জননেতা আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন মহোদয়ের নির্দেশে উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকের ধান কাটার কাজ শুরু করেছি।

তারা আরো বলেন, এই করোন মহামারিতে অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষকদের পক্ষে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া কষ্টসাধ্য। আমাদের পক্ষ থেকে ওইসব কৃষকদের সহযোগীতা করা হচ্ছে। আগামীতে অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষকদের সহযোগীতা অব্যহত থাকবে। যে কোন কৃষক শ্রমিক সংকটে যদি ধান কাটতে না পারেন তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা সেই কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসবো। আর এই কাজের জন্য উপজেলা, কলেজ ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রস্তুত আছে।

খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের উৎসাহ দিতে সেখানে যান জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক। এসময় ইউএনও অসীম চন্দ্র বনিক কে ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে কাস্তে হাতে ধান কাটতে দেখা গেছে।

অন্যান্য খবর পড়ুন