শিরোনামঃ

বেতনের টাকায় ধান কাটার শ্রমিকদের খাবার খাইয়েছেন জুড়ীর ইউএনও অসীম চন্দ্র বনিক

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ নিজের বেতনের টাকায় হাকালুকি হাওরে বোরো ধান কাটায় নিয়োজিত ৪ থেকে ৫ শত শ্রমিকদের খাবার খাইয়েছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক। ধান কাটার কাজে শ্রমিকদের উৎসাহ জোগাতে তিনি এ উদ্যোগ নেন।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম এলাকার পাশ ঘেঁষে হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের আবাদ। বেশির ভাগ জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। বৃষ্টির মধ্যে শ্রমিকেরা ধান কাটছেন। কেউ কেউ ধানের আঁটি কাঁধে করে নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন। হাওরের প্রবেশপথে কয়েকজন যুবক ঠেলাগাড়িতে করে রান্না করা খাবার নিয়ে হাজির হন। তাঁরা শ্রমিকদের ডেকে ডেকে হাতে থালা ধরিয়ে তাতে খিচুড়ি ও ডিম তুলে দেন। শ্রমিকেরা কাঁচা রাস্তার দুই পাশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে-বসে খাবার খান।

এ সময় সেখানে ইউএনও অসীম চন্দ্র বনিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওমর ফারুক, জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা, ইউপি সদস্য জমির আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, ‘মূলত ধান কাটার কাজে শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ নিই। ৪/৫ শত শ্রমিকের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের ত্রাণও দেওয়া হবে। শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।’

ইউএনও জানান, এবার হাওরে ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা শঙ্কিত। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে অতীতে কয়েক বার এ হাওরের ফসল নষ্ট হয়। এবার আগেভাগে ফসল ঘরে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় কর্মহীন লোকজনকে ধান কাটার কাজে নামতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এখন আর শ্রমিকসংকট নেই। এ মাসের মধ্যেই হাওরের সব ধান কৃষকদের ঘরে উঠে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অন্যান্য খবর পড়ুন