শিরোনামঃ

নিবিড় যোগাযোগে এলাকার খোঁজ নিচ্ছেন পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন

তানজির আহমেদ রাসেল: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। এই সরকারের আমলে একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না ইনশাল্লাহ। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে অসহায় মানুষের জন্য গৃহিত পদক্ষেপ, এলাকার ত্রাণ কার্যক্রম এবং লকডাউনে কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন এইসব বিষয়ে টেলিফোনে জানতে চাইলে এসব কথা বলেন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বরাদ্দের পাশাপাশি সরকার নানাক্ষেত্রে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। সরকারি নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ীলীগের নেতাকর্মীরা দিনমজুর, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন। ইনশাল্লাহ শীঘ্রই আমরা করোনার এই কঠিন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দারিদ্র ও অসহায় মানুষের সাহায্যর্থে তাঁর নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লক্ষ টাকার মতো বিতরণ করা হয়েছে। দুই উপজেলায় ত্রাণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার পরিবারকে। এছাড়া মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় তিনটি ধাপে প্রায় ৬ হাজার দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার জেলায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে করোনা পরিস্থিতিসহ সার্বিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করছেন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ঢাকায় অবস্থান করলেও নিয়মিত নিজ এলাকার খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ কথোপকথনে মন্ত্রী জানান, লকডাউনের শুরু থেকেই ঢাকায় বেইলী রোডের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন তিনি। সাধারণ ছুটি চলমান থাকায় অফিস নেই, তাই বাসাতেই থাকছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারি মিটিং থাকলে সেখানে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। এছাড়া করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এক মাসের বেশি সময় ধরে বাসায়ই থাকছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিদিন নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন নিজ জেলা ও নির্বচনী এলাকার, প্রয়োজনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা । সেই সাথে সময় দিচ্ছেন পরিবারকেও।

মন্ত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে খুব একটা সময় দেয়া হয়ে ওঠে না, কিন্তু এই লকডাউনে স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ছোট মেয়ে ডা. ফাহিমা ফেরদৌস ফাম্মির সাথে একসাথে গল্প গুজব করে, টিভিতে খবর দেখে আর পবিত্র রমজানের ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে দিয়ে সময় কেটে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবনে দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক মো. শাহাব উদ্দিন এমপি। দুই পুত্র জাকির হোসেন জুমন ও রাজন হোসেন যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আট ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ ভাই যুক্তরাজ্য ও দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। নিয়মিত বিদেশে অবস্থানরত দুই পুত্র, ভাই, আত্নীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সাথে ভিডিও ফোনে কথা হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সবার জন্য খুব টেনশন হয়। এই বৈশ্বিক মহামারী থেকে আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক।

নিজ এলাকা তথা দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় গোটা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও এক কঠিন সময় পার করছে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নীতিমালা আর দিক নির্দেশনা মেনে সামাজিক-শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। সর্বোপরি বাসায় থাকতে হবে, অপ্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না। নিজেকে, পরিবারকে ও দেশকে বাঁচাতে সবাইকে কিছুদিন হলেও এই কষ্ট মেনে নেবার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, মহিমান্বিত এই রমজান হচ্ছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। পবিত্র এই মাসে বৈশ্বিক মহামারী থেকে রক্ষার জন্য বেশী বেশী আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। পাশাপাশি এই দুর্যোগের সময় নিজ এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সাধ্যমত সহায়তা করার জন্য তিনি বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানান ।

মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) সংসদীয় আসনের চারবারের সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন এমপি। তৃণমূল থেকে ওঠে আসা ক্লিন ইমেজের এই রাজনীতিবিদ প্রথম ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। সৎ ও নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মো. শাহাব উদ্দিন ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় হুইপ করেন। জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করায় সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। সর্বশেষ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়ে জয়ের ধারাবাহিকতায় অক্ষুন্ন রাখায় মন্ত্রীত্ব পান সজ্জন এই রাজনীতিবিদ।

অন্যান্য খবর পড়ুন