শিরোনামঃ

শুভ হউক জয় এর আগামীর দিনগুলো

ফখরুল ইসলামঃ জয়! পুরো নাম তার হাবিবুর রহমান জয়। চটপটে তরুন। ক’দিন আগে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নষ্ট হয়ে যায়। দু’দিন আগে জুড়ী টাইমস কার্যালয়ে সম্পাদক-প্রকাশক এস.আই সুমনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা নিয়ে বসেছিলাম। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এসেছিলো, আমি এস.আই সুমনকে বসার সময় বলেছিলাম ইফতার আমার বাড়ীতে করতে হবে। সুমন সাহেব বল্লেন ঠিক আছে। স্বস্থিতেই আলাপরত থাকা অবস্থায় হঠাৎ জয় এসে হাজির। সঙ্গে একটি কিশোর। কিশোরের পরিচয় হলো সে নয়াগ্রামের মেহের আলী মাস্টারের ছেলে। জয় কক্ষের ভেতরে আর ছেলেটি দরজায় দাড়িয়ে। জয় সম্পাদক সাহেবের নিকট টাকা চাইলো মোবাইল ফোন ক্রয় করতে। ছেলেটি একটি এলজি সেট বিক্রি করতে আসছে। তাৎক্ষনিক টাকা দিতে পারলেন না জয়ের মামাতো ভাই সম্পাদক-প্রকাশক এস.আই সুমন। তবে সম্পাদক ওই কিশোরকে বল্লেন তুমি আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে যাও আর রাতে একটি বিকাশ নাম্বার দিও তোমার টাকা পৌছে যাবে।

তখন কিশোর বলছিলো এই সেট টা বিক্রি করে ফেলেছি। কন্টিনালায় টাকা নিয়ে বসে আছে, এক মাত্র জয় ভাই ডাক দিয়েছেন, তাই এসেছি। কথাটি বলতেই আমি জয়ের হাত থেকে সেটটি হাতে নিয়ে বল্লাম আমারও ত সেট প্রয়োজন। জয় তুমি কত দাম ঠিক করেছো। সে বল্ল ১৫’শ টাকা। আমি ছেলেটিকে বল্লাম ঠিক আছে আমি ১৫’শ টাকা দিয়ে দিবো। তুমি আমার সাথে আমার বাড়ীতে চলো। ওমনি সম্পাদক সাহেব জয়কে বল্লেন যাও উনাকে বাড়ীতে পৌছে দিয়ে আসো। সম্পাদকের বড় ভাই জহির উদ্দিন শামীম বল্লেন, আসো তোমাদেরকে নামিয়ে দিয়ে আমি বাজারে যাবো। আমরা দুজন মোটরসাইকেলে উঠে বসলাম। একটানে বাড়ীর সামনে নামিয়ে দিয়ে শামীম চলে গেলে আমরা দুজন আমাদের বাড়ীতে পৌছালাম। বাড়ীতে পৌছে স্ত্রীর নিকট মোবাইল সেটটি দেখিয়ে দেড় হাজার টাকা চাইলাম। তিনি বল্লেন একটাকাও নেই। আমি বল্লাম তোমার কাছে যা আছে আর বাকিটা কারো কাছ থেকে হাওলাত করে আনো। আমার আশে-পাশে অনেক প্রবাসীর স্ত্রী রয়েছে। তাদের সাথে দহরম-মহরম দেখছি আমার স্ত্রীর। সেই ভরসাতেই আমি বলেছি, কিন্তু তিনি জানালেন দেড় হাজার টাকা তিনি তাদের নিকট চাইতে পারবেন না। মনে মনে লজ্জা পাচ্ছিলাম। স্ত্রীকে বল্লাম ছেলেটিকে বলেছি ইফতার করে যেতে।

এখনো তো ২৫ মিনিট বাকি আছে। একটু চেষ্টা করো, প্রয়োজনে মোবাইল সেটটি হাতে করে নিয়ে যাও। তাও তিনি যেতে রাজি নন। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরই মধ্যে জয়ের ফোন এলো। জয় বলছে, টাকা সংগ্রহ হয়েছে। আমি সঙ্গে-সঙ্গে ছেলেটির হাতে ফোনটি ধরিয়ে দিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাচলাম। ছেলেটি চলে যেতেই জয়কে নিয়ে গভির ভাবে ১০ মিনিট ভাবলাম। ছেলেটি এতিম। তার বাবাকে হারিয়েছে সদ্য। জয়ের বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল আওয়ামীলীগের একজন নিবেদীত প্রাণ কর্মী। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কে কটাক্ষ করে কেউ তার সামনে থেকে ইজ্জ্বত সম্মান নিয়ে যেতে দেখিনি। অনেক সময় দেখতাম তার সমবয়সী বিরোধী দলীয় কর্মীরা তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে খোঁচা দিতেন। তখন তিনি জ¦লে উঠতেন। বলতেন, শেখ হাসিনা থাকায় গণতন্ত্র বেচেঁ রয়েছে। না হয়, সারা জীবনের জন্য সামরিকতন্ত্র চলতো। আর বঙ্গবন্ধু না থাকলে আজ বাংলাদেশের জন্ম হতো না। থাকতো পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের লোকেরা বাঙ্গালীকে কত নিচু চোখে দেখে, তা আমি দেখেছি তোমিও দেখেছ প্রবাস জীবনে। সুতরাং কোন আওয়াজ দিবেনা বলে, বুক ফুলিয়ে চিৎকার করে বলতেন। সমস্ত শরীর তার হুংকার দিত, তখন মনে হতো বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা যেন তার রক্তের আত্মীয়। সব সময় দেখতাম হাসি-খুশি থাকতেন তিনি।

জয়ের বাবা চান মিয়া ভাই ছিলেন বয়সে দিক থেকে আমার চেয়ে বড়। আমাকে খুবই ভালোবাসতেন একেবারে আপন ছোট ভাইয়ের মত। একবার পোস্ট অফিস রোড থেকে একটি কাঠাল কিনে দিয়ে বল্লেন বাড়ী নিয়ে বাচ্চা-কাচ্চাকে নিয়ে খাইস। এমন আরো অনেক স্মৃতি আছে চান মিয়া ভাইয়ের সাথে। বেচারা ষ্ট্রোক করে অকাল মৃত্যুবরণ করেন। বলছিলাম জয়ের কথা। ইতিমধ্যেই স্কুলের ঘন্ডি পেরিয়ে কলেজ জীবনে পদার্পন করেছে। তিন বোনের একমাত্র ভাই জয় যেন, জয় করে নিতে চায় সব। জয় তার পারিবারিক ধারা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে সু-পরিচিত। জয় কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। এরই মধ্যে গ্রুপিংয়ের মারা মারিতে তার উপর মিথ্যা মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। জয় ছেলেটি জুড়ী টাইমস পরিবারের একজন। জুড়ী টাইমস অনলাইন ভার্সনের প্রায় ছবিতেই রয়েছে তার ছোঁয়া। তাকে কাছে থেকে দেখা ও জানা শুনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে জুড়ী টাইমসে কাজ করার সুবাদে।

সম্পাদক-প্রকাশক সুমন সাহেব আমাকে জয়ের সম্পর্কে উদাহরণ দিতে গিয়ে বল্লেন, জয় খুব ভালো মনের একটা ছেলে। যেমন ধরুন, মানুষের পরিবেশকে সুন্দর দেখতে সে খুব পছন্দ করে। সে ইতিমধ্যেই লকডাউনে মানুষের ঘরে ঘরে জুড়ী টাইমস সহ বিভিন্ন জনের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দিয়ে প্রচুর কাজ নিরলস ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে বদর উদ্দিন জেনারেল হসপিটালে এক প্রসূতী রোগীর রক্তের খুব প্রয়োজন ছিলো। জয় তখন সাথে সাথে তার শরীর থেকে ওই মহিলাকে রক্ত দেয়। তাছাড়া কয়েকদিন পূর্বে নাইট চৌমুহনীতে একটি কুকুর সড়ক দূর্ঘটনায় মারা পড়েছিলো। কুকুরটির মরদেহ যথাস্থানেই পড়ে রয়েছিলো। কেউ যেন নেই তা সৎকারের। জয় এগিয়ে এলো। আমার ভাগিনা হাফেজ শাহাদাত সোহেল অপুকে নিয়ে জয় একটি গর্ত করে কুকুরটিকে মাটিতে পুঁতে সৎকার করলো। আরো কতো কি। জয় সব সময় মানুষের সমস্যায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। যে কোন মানুষ বিপদে পড়লেই জয়ের কানে খবর এলে ছোটে যায় সে।

জয় এর কথা, শান্তিপূর্ন বাংলাদেশ গড়াই আমার কাজ। ছাত্রলীগের মূল নীতি শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি এই মূল মন্ত্রে আমি উদ্দিপ্ত। আমার লেখা পড়ার ফাকে বাকি সময়টুকু সমাজে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যায় করে আগামীতে দেশের সমৃদ্ধি ও প্রগতি আনতে চাই। আমরাও জয়ের ভবিষ্যত জয়যাত্রা কামনা করছি। শুভ হউক জয় এর আগামীর দিনগুলো।

অন্যান্য খবর পড়ুন