শিরোনামঃ

জুড়ীর রত্না চা-বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার রত্না চা-বাগান বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে রত্না চা-বাগানের শ্রমিকেরা বিপাকে পড়েছে। শ্রমিকরা বলছে, কর্তৃপক্ষ এভাবে হঠাৎ করে বাগান বন্ধ করতে পারে না। এটা বেআইনি। তাঁদের মজুরি ও রেশন বাকি রয়েছে।

শ্রমিক, বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘এফ রহমান টি কোম্পানি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রত্না বাগান পরিচালনা করছে। বাগানের দুটি অংশ। একটি রত্না ও অপরটি এলাপুর ফাঁড়ি। বাগানে মোট স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ৬৭১ জন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় গাজীপুরের টঙ্গীতে।

সম্প্রতি অস্থায়ী শ্রমিকদের ছাঁটাই, চায়ের কুঁড়ি সংগ্রহের কাজে অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু নারী শ্রমিক নিয়োগ, নারী শ্রমিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক শামছুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে ১৪ জুন শ্রমিক নেতারা উত্তেজিত হয়ে উপ-মহাব্যবস্থাপককে বাগান ছেড়ে যেতে বলেন। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপ-মহাব্যবস্থাপক বাগান ছেড়ে চলে যান।

এ দিকে প্রত্যেক সপ্তাহের সোমবার শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন দেওয়া হয়। কিন্তু, গত সোমবার (১৫ জুন) তা দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ১৬ জুন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাগানের কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে উপ-মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ মিটিয়ে তাঁকে বাগানে ফিরিয়ে আনা এবং বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মজুরি ও রেশন প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগানের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনের দেয়ালে একটি নোটিশ সাঁটানো হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের পক্ষে আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক-কর্মচারী বাগানের বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনায় বাধা প্রদান করছেন। এতে উৎপাদন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

নোটিশের অনুলিপি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহা-পরিদর্শক, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।

অন্যান্য খবর পড়ুন