শিরোনামঃ

ভারতের করিমগঞ্জে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, ধারণা জুড়ীর বাসিন্দা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভারতের গণমাধ্যম ‘দ্যা হিন্দু’ পত্রিকার তথ্যমতে আসামের দক্ষিণাঞ্চলে করিমগঞ্জ জেলায় তিন বাংলাদেশীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। ওই দলের আরো ৪ জন পালিয়ে বেঁচে গেছে।

জেলার পুলিশ সুপার কুমার সঞ্জিত কৃষ্ণ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে বিএসএফের ১৩৪ ব্যাটালিয়নের ই কোম্পানির কাছেই বুবরীঘাট চা-বাগানে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তারা তদন্ত করে দেখেছেন ওই বাংলাদেশীরা সীমান্ত পেরিয়ে বুবরীঘাট এলাকায় গরু চুরির করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। আজ করিমগঞ্জ জেলা সদরদপ্তর থেকে ভারতীয় পত্রিকা দ্য হিন্দুকে এমন কথাই বলেছেন এসপি সঞ্জিত।

তিনি আরও জানান, নিহত ওই তিন জনের কাছে বাংলাদেশী বিস্কুট, রুটি, রশি, ব্যাগ, তার ও বেড়া কাটার যন্ত্র পাওয়া গেছে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, ওখানকার করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য, শিলচর থেকে প্রকাশিত ‘প্রান্তজ্যোতি দৈনিক’ এবং ‘বরাক বুলেটিন’ এর সাংবাদিক সুদীপ দাসও প্রায় একই রকম তথ্য জানিয়েছেন।

সাংবাদিক সুদীপ দাস জানান, গত জুন মাসে চাবাগানে গরু চোর সন্দেহে মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশের জুড়ী উপজেলার চোরের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের পাথারকান্দি সমষ্টির বুবরীঘাট চাবাগান চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল। গরু চোর সন্দেহে বাগান শ্রমিকদের গণপ্রহারের ফের মৃত্যু তিন বাংলাদেশির।

ঘটনা শনিবার গভীর রাতের। স্থানীয় বাগান শ্রমিক রাজু তেলেঙ্গার ঘরে সাত জনের চোরের দল গোয়াল ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকলে তা টের পেয়ে যায় রাজুর স্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে শুরু চিৎকার চেঁচামেচি। মুহুর্তে মধ্যে বাগান শ্রমিকসহ গ্রাম রক্ষীর দল একজোট হয়ে খানিকটা পথ চোরের দলের পিছু করলে তিন জন হাতেনাতে পাকড়াও করলে শুরু হয় গণপ্রহার। বাকি চারজন পালিয়ে গেলে আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোববার ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ১৩৪ নম্বর বিএসএফ আধিকারিকসহ করিমগঞ্জ সীমান্ত শাখার অতিরিক্ত পুলিশ অধিক্ষক প্রশান্ত দত্ত। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের উপস্থিতেতে মৃত তিন গরু চোরের পকেটে থেকে উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশের বিড়ি, দেশলাই, বিস্কুট, মশার কয়েল, ফেন্সিং কাটার যন্ত্রসহ কিছু নথি পত্র। এর থেকে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয় মৃত তিন গরু চোর জুড়ী উপজিলার জামকান্দি এলাকা বা সোনারুপা চা-বাগানের।

তবে নিহত তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, বিষয়টি শোনার পর আমরা সোনারুপা চা বাগান ও জামকান্দি এলাকায় খোঁজ নিচ্ছি।

বিজিবি’র ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ জানান, বিচ্ছিন্নভাবে এরকম সংবাদ আমরাও শুনেছি। তবে নিশ্চিত না হয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না।

অন্যান্য খবর পড়ুন