শিরোনামঃ

ভারতে ৩ বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা, ২ জনের পরিচয় শনাক্ত

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানার ভুবরিঘাট চা-বাগানে গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা তিনজনের মধ্যে দুইজন বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

পরিচয় পাওয়া বাংলাদেশিরা হচ্ছে বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬) ও আকদ্দছ মিয়ার ছেলে নুনু মিয়া (৩২)। তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা এবং পেশায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক।

করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য, শিলচর থেকে প্রকাশিত ‘প্রান্তজ্যোতি দৈনিক’ এবং ‘বরাক বুলেটিন’ এর সাংবাদিক সুদীপ দাস জানান, গত শনিবার (১৮ জুলাই) গভীর রাতে স্থানীয় ভুবরিঘাট চা-বাগানের শ্রমিক রাজু তেলেঙ্গার ঘরে সাত জনের চোরের দল গোয়াল ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে। টের পেয়ে রাজুর স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেন চিৎকার চেঁচামেচি। মুহুর্তের মধ্যে বাগান শ্রমিকসহ গ্রামরক্ষীর দল একজোট হয়ে ধাওয়া করলে তিনজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পিটিয়ে মেরে ফেলে। বাকি চারজন পালিয়ে গেলে আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সুদীপ জানান, রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান বিএসএফ আধিকারিকসহ করিমগঞ্জ সীমান্ত শাখার অতিরিক্ত পুলিশ অধিক্ষক প্রশান্ত দত্ত। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের উপস্থিতেতে মৃত তিনজনের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশের বিড়ি, দেশলাই, বিস্কুট, মশার কয়েল, ফেন্সিং কাটার যন্ত্রসহ কিছু নথিপত্র। এর থেকে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয় মৃত তিন গরু চোর বাংলাদেশি।

সেখানকার গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ ও ছবি পাঠিয়ে ঘটনা জানান জুড়ীর গণমাধ্যম কর্মীদের। এ সংবাদে জুড়ী থানার পুলিশ নিহতদের পরিচয় উদ্ধারে রোববার রাতভর অনুসন্ধান চালায়। একপর্যায়ে সোমবার দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হন তারা। বিকাল চারটায় ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার নিহত দুইজনের পরিচয় উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন।

অন্যান্য খবর পড়ুন