শিরোনামঃ

জুড়ীতে ইভ টিজিং ও নারী নির্যাতন বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত

জুড়ী টাইমস সংবাদঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ইভ টিজিং ও নারী নির্যাতন বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি টিএনখানম সরকারি কলেজ গার্লস ইন-রোভার এর আয়োজনে কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইভ টিজিং ও নারী নির্যাতন বিরোধী সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও লেডিস ক্লাবের সভাপতি কবিতা ইয়াসমীন।

টিএনখানম সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক নাছরিন পপির সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও লেডিস ক্লাবের সভাপতি সানজিদা তালুকদার ইভা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্মা, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোস্তাফিজুর রহমান, টিএনখানম সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক রেহানা আক্তার, সমাজ বিজ্ঞন প্রভাষক ফাতেমা বেগম সাথী, ইংরেজি প্রভাষক ফেমিনা ফারাহ জামান, অফিস সহকারী শাহানা আক্তার বপি, লাইব্রেরিয়ান ফাতেমা বেগম, অভিভাবক আছমা আহমেদ সুমী প্রমূখ। সভা উপস্থাপনায় ছিলেন কলেজের শিক্ষার্থী পারিজাত চদ্রাননা অর্চি ও বনশ্রী দাশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবিতা ইয়াসমীন বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে দেশের তরুণ-যুবসমাজকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে অভিভাবক, শিক্ষকসমাজ ও এলাকার রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। নারী নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে, এমন পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ নিরোধের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ। নারীর বিষয়ে সমাজের পুরুষের বিশেষ করে তরুণ সমাজের যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতা, তা থেকে আধুনিক যুক্তিযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য সচেতনতার প্রয়োজন। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীসমাজকে সব ক্ষেত্রে সম–অংশগ্রহণের সুযোগ করে না দিলে এবং নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারবে না। নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, এসিড সন্ত্রাস, যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক সহিংসতা এসব প্রতিরোধে যেসব আইন হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, এসিড নিক্ষেপ, উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, বে-আইনি ফতোয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কিশোরী নির্যাতন বন্ধে নীরবতা ভেঙে এগিয়ে আসতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূলেও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতা মূলক কর্মসূচিতে নারী ও কন্যাশিশুদের যুক্ত করতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নিমূর্ল কর্মসূচিতে পুরুষসমাজকে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং ওসিসির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালুর লক্ষ্যে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে। পরিবার থেকে নারী নির্যাতনবিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন