শিরোনামঃ

সরকার ঘোষিত লকডাউনে চরম সংকটে জুড়ীর নিম্নআয়ের মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুর হার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। করোনার সংক্রমণ রোধে চলছে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন। এ লকডাউনে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় চরম সংকটে পড়েছেন শ্রমিক, রিকসাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষজন।
সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঘরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু নিম্নআয়ের মানুষজনের খাবারের সন্ধানে ঘর থেকে বের হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর যারা কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন তারাও দিন শেষে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। কারণ, স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার একেবারেই নেই বললেই চলে। আয় না থাকায় এসব নিম্নআয়ের পরিবারগুলো পড়েছে চরম খাবার সঙ্কটে।
ঘুম থেকে উঠে সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সারাদিন প্রচুর পরিশ্রমের পর দিন শেষে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটানোই হলো নিম্নআয়ের পরিবারের কর্তার প্রধান কাজ। রাতে ঘুমানো, পরদিন আবার কাজে যাওয়া- এই টেনশন যেন তাদের নিত্যদিনের। কঠিন জীবনচক্রের মধ্যে থাকা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা দেশে নেহায়েত কম নয়, যাদের নেই কোনো সঞ্চয়; বরং আছে ঋণের বোঝা। করোনার লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের খেটে খাওয়া মানুষজন। লকডাউনে কয়েক দিন যাবৎ কর্মহীন জীবন পার করছেন এসব নিম্নআয়ের মানুষ।
রমজান ও লকডাউনে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজনের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। লকডাউনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সকল ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের ঘাড়ে পড়েছে বাড়তি চাপ। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
সরেজমিন রবিবার (১৮ এপ্রিল ) দুপুরে জুড়ী নাইট চৌমুহনীতে রিকশাচালক ময়ূব আলীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। লকডাউনে রিকসা নিয়ে বের হয়েছেন কেন- বলতেই তিনি বললেন, ভাই পেটের জ্বালায় ঘরে থাকা যায় না। আমরা সাধারণ মানুষ, আমরার খবর রাখে কে? পেটের দায়ে রিকসা নিয়ে বের হয়েছি। সকাল থেকে রিকসা নিয়ে ঘুরছি, রাস্তায় যাত্রী না থাকায়  আয়-রোজগার নেই বললেই চলে। গতকাল রিকসার মালিককে দিয়ে ৬০ টাকা নিয়ে বাড়ি গেছি, এই টাকায় কী হয় বলেন?
এ সময় তিনি আরো বলেন, করোনা নয়, সরকার সাহায্য না করলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। এই লকডাউনে সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা আমাদের বড্ড প্রয়োজন।
করোনার ঝুঁকি এড়াতে সরকার ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে। সকল প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটির পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে শপিংমলসহ গণপরিবহন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সবকিছু বন্ধ থাকায় কাজে বের হতে পারছেন না সাধারন খেটে খাওয়া মানুষজন। সব মিলিয়ে দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করা খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম বিপর্যয়ে।
গতবার লকডাউনে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় নিম্নআয়ের মানুষগুলো অনেকটা হাঁফছেড়ে বেঁচেছিল। কিন্তু এবারের লকডাউনে এখনো পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষগুলোর জীবন কাটছে চরম আতঙ্কে। চরম সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষেরা চেয়ে আছেন সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যের দিকে।
লকডাউনে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষদের সরকারি সহযোগিতার ব্যাপারে আলাপকালে, উপজেলা প্রকল্প ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, গতবার লকডাউনে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হয়েছে। এবারের লকডাউনেও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা করা হবে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি সহায়তা আমাদের কাছে এসে পৌঁছবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন