শিরোনামঃ

এক মানবিক ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পুলিশ জনগণের বন্ধু। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সুনাম অর্জন দিনদিন বেড়েই চলছে। পুলিশ বাহিনীতে রয়েছেন জনগণের কল্যাণে দিন-রাত কাজ করা হাজারো মানবিক পুলিশ অফিসার।
অদৃশ্য করোনার আঘাতে পৃথিবী এখন অচেনা। পূর্ব থেকে পশ্চিম কিংবা উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুরো পৃথিবীটাই যেন লণ্ডভণ্ড। ছোঁয়াচে এক অদৃশ্য জীবাণুর কারণে সবাই ভয়ে তটস্থ। আপন মানুষগুলো যেন পর হয়ে গেছে। করোনার সংক্রমণ রোধে জনসাধারণকে সুরক্ষা দিতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি ) সঞ্জয় চক্রবর্তী। মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে ইতোমধ্যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। মানুষকে ঘরে রেখে, সুস্থ রাখতে প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সম্মুখ থেকে করোনার সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এই পুলিশ অফিসার।
এছাড়া থানার সকল পুলিশ সদস্য যাতে সুরক্ষার সাথে কাজ করতে পারেন সেজন্য তিনি সদস্যদের মধ্যে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ থানায় আগত জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য থানা ভবনে স্থাপন করেছেন জীবাণুমুক্ত করার স্প্রে মেশিন। একজন নেতা যেমন কর্মীদের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যান, তেমনিভাবে তিনি জুনিয়র অফিসারদের কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে কাজ করিয়ে নেন।
উপজেলার অসহায় মানুষকে ভালো রাখতে কাজ করার পাশাপাশি তিনি গেল শীতে উপজেলার ছিন্নমূল, বয়স্ক, কর্মজীবী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মাঝে রাতের আঁধারে করেছেন কম্বল বিতরণ। জুড়ী থানায় যোগদানের পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। উপজেলাকে মাদক, ইভটিজিং ও গ্যাং কালচারমুক্ত এবং চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে নিয়মিত করে যাচ্ছেন সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
থানায় আসা এক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি জানান, সম্প্রতি আমার বাড়ির একটা সমস্যা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলাম। সমস্যা সমাধানে ‍ওসি স্যারের আন্তরিকতার কোনো অংশে কমতি ছিল না। আমার দেখা পুলিশ অফিসারের মধ্যে সেরা এই স্যার। যদি বলি একজন মানবিক অফিসার, যদি বলি একজন নিষ্ঠাবান অফিসার, যদি বলি একজন অসাধারণ ভালো মানুষ, সব বিশেষণ স্যারের সঙ্গে মিশে আছে।
তিনি এ থানায় যোগদানের পর ২০২০ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার  আসামিদের গ্রেফতার করেন। মামলায় পরোয়ানাভুক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।
বিভিন্ন সময়ে অভিযানে আসামি গ্রেফতারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ৬৮৬ পিস ইয়াবা, ৪২৭ লিটার চোলাই মদ, ২ কেজি  ৫২৫ গ্রাম গাঁজা। গত ৯ মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় সাজা পরোয়ানাভুক্ত ৭, জিআর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ৫৯, সিআর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত  ৪০ এবং নিয়মিত মামলার ৬৯ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের রুটিন ওয়ার্কের বাইরেও ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী দিন-রাত উপজেলার সাধারণ জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সৎ, নির্লোভ, সহজ-সরল ও মানবিক ডায়নামিক অফিসার হিসেবে উপজেলাবাসীর হৃদয়ে ইতোমধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের সকল পুলিশ বর্তমানে মানবিক পুলিশ হিসেবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। করোনার করালগ্রাস থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশক্রমে উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

অন্যান্য খবর পড়ুন