শিরোনামঃ

জুড়ীতে ৪১ দিন নামাজ পড়ে ‘বাইসাইকেল’ উপহার পেলো শিশুরা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলাগাঁও পঞ্চায়েতের যুবকদের উদ্যোগে ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় ১১ শিশু কিশোরকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ মে) জুমার নামাজের পর পশ্চিম বেলাগাঁও ঈদগাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিজয়ী ১১ শিশু কিশোরকে সাইকেল ও ১৩ জন শিশু-কিশোরকে স্কুল ব্যাগ এবং ২৫ জন মুরুব্বিদের নতুন পাঞ্জাবি উপহার দেওয়া হয়। মোজাহিদুল ইসলাম জয়দুলের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা মুফতি মুশাহিদ কাসেমী।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাসুম রেজা, সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, পশ্চিম বেলাগাঁও ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ রোমান আহমদ, এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি সিদ্দিক আলম, আবুল কাশেম, আব্দুল কাদির, আব্দুস সুবহান, লাল মিয়া, ফরিদ আলি, নুর আলম, ইউসুফ আলী, জুড়ী উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সুমন, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মোঃ আক্তার হোসেন।

এলাকার যুবসমাজের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকার যুব সমাজকে খারাপ ও অনৈতিক কাজ থেকে ফিরিয়ে এনে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতেই মূলত এ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছেন তারা। এলাকার ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী ছেলেদের জন্য ৪১ দিনব্যাপী পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সহিত নামাজ প্রতিযোগিতা শুরু হবে গত ১৯ মার্চ শুক্রবার থেকে।

শিশু-কিশোরদেরকে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করে মসজিদমুখী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপজেলার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এলাকার পঞ্চায়েতের যুবক হাবিবুর রহমান ও আক্তার হোসেন বলেন, যুবসমাজকে অনৈতিক কাজ থেকে ফিরিয়ে এনে মসজিদ মুখী করার লক্ষ্যেই মূলত আমাদের এই উদ্যোগ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমাদের কে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।

পশ্চিম বেলাগাঁও ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ রোমান আহমেদ বলেন, পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিনই প্রায় শতাধিক শিশু কিশোর নামাজে আসেছে। নামাজের পাশাপাশি তাদেরকে নৈতিকতা সহ সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরী মাসয়ালা ও শেখানো হয়েছে। আশা করছি এই পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নামাজের প্রতি আকৃষ্টতা ফিরে এসেছে তা সবসময় বজায় থাকবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন