শিরোনামঃ

জুড়ীর ফুলতলায় রাস্তার কাজে বাঁধা; এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় ফুলতলা ইউনিয়নের একটি রাস্তার কাজে বাঁধা দিয়েছেন চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। আর রাস্তার কাজে বাঁধা দেওয়ায় বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসী ও থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলতলা থেকে মতিঝিল রোড (রোড কোড- ৫৬৫৮৮৪৫০৭২) পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তা ছিলো। ওই রাস্তায় এলজিএসপি এবং এডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ বছর পূর্বে ২ কিলোমিটার ইট সলিং এর কাজ সম্পন্ন হয়। গতবছর জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে ওই রাস্তায় আরো ৪৩০ ফুট ইট সলিং এর কাজও সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি ওই রাস্তায় স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) আওতায় আরো ৪০০ ফুট ইট সলিং এর কাজ শুরু করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। গত ৮ জুন ওই রাস্তায় চলমান ইট সলিং কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান রুহুল ইসলাম। ওই রাস্তায় ইউএনও যাওয়ার খবর পেয়ে ফুলতলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামের প্ররোচনায় রবি বুনার্জী ও দ্বীপ চান্দ গোয়ালার নেতৃত্বে শতাধিক চা শ্রমিক ওই রাস্তায় অবস্থান নেন এবং রাস্তা অন্য দিকে নেয়ার জন্য ইউএনও’র কাছে দাবি জানান। ইউএনও আল-ইমরান রুহুল ইসলাম চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে উপজেলায় চলে আসেন। ইউএনও চলে আসার পর ওই চা শ্রমিকরা রাস্তার ইট তুলে ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ওই সময় চা শ্রমিকরা রাস্তার কাজের শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। হামলায় শ্রমিক সরদার মোঃ হাছিব আলী আহত হন এবং অন্যান্য শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। তখন মারমুখি শ্রমিকরা ফুলতলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশে প্রায় পাচঁ সহস্রাদিক ইট উপড়ে ফেলে এবং রাস্তার উপর চা গাছের চারা রোপন করেন।

এদিকে রাস্তার কাজে বাঁধা দেওয়ায় ফুলতলা চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে ফুলতলা বাজারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফুলতলা বনিক সমিতির সভাপতি বেলাল উদ্দিন। ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইমতিয়াজ মারুফের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ। অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল উদ্দিন সেলিম, মাহবুব আলম রওশন, মোরশেদ আহমদ রাজা, সিদ্দিকুর রহমান, মহিলা সদস্য সেবিকা রানী চন্দ্র, আমিনা বেগম, স্থানীয় শাহীন আহমদ মাস্টার, মাওলানা শামসুল ইসলাম, ব্যবসায়ী পাখি মিয়া, শ্রমিক নেতা মঈন উদ্দিন, বিশিস্ট মুরব্বি আমির হোসন, ফুলতলা বনিক সমিতির প্রচার সম্পাদক আব্দুর রশিদ প্রমূখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফুলতলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশে চা শ্রমিকরা সরকারি রাস্তার কাজে বাঁধা দেয়ার পাশাপাশি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে গেছে। রাস্তা বন্ধ করে চা গাছের চারা রোপন করেছে। চা শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত বাগান ব্যবস্থাপক উস্কানি দিয়ে উত্তেজিত করে রেখেছে। শুধু তাই নয়, বাগান ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট লিখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করছে।
জানতে চাইলে ফুলতলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যে রাস্তায় ইট বিছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটি দিয়ে লোকজনের চলাচল নেই। রাস্তাটি ভালো হলে যান চলাচল বেড়ে যাবে। এতে চা–-বাগানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তা ছাড়া চা-বাগানের অনেক খারাপ রাস্তা আছে। সেসব রাস্তায় কাজ হয় না। তাই শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই রাস্তায় ইট বিছানোর কাজে বাধা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, ওই রাস্তার কাজ হলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বেশ কয়েকটি খাসিয়া পুঞ্জির লোকজন এবং চা-বাগানের শ্রমিকদের চলাচলের সুবিধা হবে। চা-বাগান কর্তৃপক্ষের মদদে চা-শ্রমিকেরা ওই রাস্তার প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি মহোদয়কে জানিয়েছি।

ইউএনও আল-ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজ হলে সমস্যার কোনো কারণ নেই। চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কাজে বাধা দিয়ে ঠিক করেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তবে বিষয়টি নিয়ে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগামী রবিবার আমরা বৈঠকে বসবো। আশাকরছি উক্ত ঘটনার সমাধান হবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন