শিরোনামঃ

জুড়ীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী পালন

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বাঙালির সব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ। এই মহীয়সী নারী ১৯৩০ সালের আজকের দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ আপসহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে শুধু বাঙালি জাতির পিতাই হননি, বিশ্ব বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী, মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

এদিকে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। আজ রোববার (৮ আগস্ট) বেলা ২ টায় জুড়ী শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনের বাস ভবনের সম্মুখে জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ।

জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বদরুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিংকু রঞ্জন দাশের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, সহ-সভাপতি মাসুক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম কাজল, আব্দুস সাত্তার, দপ্তর সম্পাদক শরদেন্দু দাশ শেখু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. আরমান আলী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদির, আব্দুল কাদির দারা, আফজাল হোসেন চিকন, অটল কৃষান সিংহ শিবেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ইকবাল ভুইয়া উজ্জ্বল, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক গৌতম দাস প্রমূখ।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা তার পিতা-মাতা দুই জনকেই হারান। ১৯৩৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফজিলাতুন নেছা জাতির পিতার শুধু সহধর্মিণীই ছিলেন না, ছিলেন সহযোদ্ধা ও কর্মপ্রেরণাদাত্রী। এই ত্যাগী নারী পরিবারের সব দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে জাতির সেবায় মনোনিবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, রাজনীতির নানা দুঃসময়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন গঠনমূলক পরামর্শ। তার বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পরামর্শগুলো জাতির জীবনে সুফল বয়ে এনেছে- যা জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বদরুল হোসেন বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারেবারে পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি ছিলেন, তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বঙ্গমাতার কাছে ছুটে যেতেন। তিনি তাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিকনির্দেশনা বুঝিয়ে দিতেন। লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে কাজ করেছেন, গরীব-এতিম-অসহায় মানুষকে সাহায্য করেছেন, বীরাঙ্গনাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার মতো মহৎ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দেশের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে ফজিলাতুন্নেছার কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম, দূরদর্শী চিন্তা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার জন্য তিনি বঙ্গমাতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এ দেশের রাজনীতিতে তার অনন্য সাধারণ ভূমিকার জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই মহীয়সী নারী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সপরিবারে খুনিচক্রের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শহীদ হন।

অন্যান্য খবর পড়ুন