শিরোনামঃ

মুজুরী বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী ও লংলা ভ্যালির ৭০টি চা-বাগানে দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবার (১০ আগস্ট) সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেছেন।

শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, চা-শ্রমিকদের সংগঠন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চা-বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা-সংসদের করা চুক্তি অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর এ চুক্তি সম্পাদনের কথা। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন হয়। ওই চুক্তিতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আর নতুন করে চুক্তি হয়নি।

সম্প্রতি চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশীয় চা-সংসদ মজুরি ১৪ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু, নেতারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে ১ আগস্ট চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশীয় চা-সংসদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে দাবি মেনে নিতে সাত দিনের সময়সূচী বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানায় সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জুড়ীর রত্না চা-বাগানের কারখানার সামনে ৭০০-৮০০ শ্রমিক নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, রত্না বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুমন ঘোষ ও এলাপুর ফাঁড়ি বাগান কমিটির সভাপতি চন্দন চাষা। পরে শ্রমিকেরা জুড়ী-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন শ্লোগানও দেন।

চা-শ্রমিক ইউনিয়নের জুড়ী ভ্যালি কমিটির সভাপতি কমল চন্দ্র বুনার্জি বলেন, তাঁদের আওতাধীন জুড়ী, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার মোট ৩৬টি বাগানে কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। কাল বৃহস্পতিবারও (১১ আগস্ট) এ কর্মসূচী চলবে। এরপর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী কর্মসূচী নেওয়া হবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন