শিরোনামঃ

কমলগঞ্জে সাংবাদিককে কুপিয়ে আহত, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা

সাইফুল ইসলাম সুমনঃ শনিবার বেলা দেড়টায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মোটারসাইকেল আটকিয়ে দৈনিক খবরপত্র কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৈনিক নতুন দিন মৌলভীবাজার প্রতিনিধি আব্দুল বাছিত খাঁনকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মুখুশধারী সন্ত্রাসীরা। দায়ের কুপে সাংবাদিক বাঁছিতের ডান হাত দেহ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন, কাঁদে এবং পায়েও গুরুতর আগাত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। রোববার দুপুরে তার একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে শনিবার রাতে ও ভোরে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ সন্দেহমূলকভাবে ৪ জনকে আটক করে, পরে দুইজনকে ৫৪ ধারা দেখিয়ে আদালতের মাধ্যেমে জেল হাজতে পাঠান ও দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ হামলাকারীদে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রবিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ‘কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুনা ময়না চত্তরে’ সর্বস্থরের সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষের অংশ গ্রহনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাপ্তাহিক কমলগঞ্জের প্রকাশক ও সম্পাদক কমলগঞ্জ পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমেদের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সাজিদুর রহমান সাজু ও মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় টানা দেড় ঘন্টা স্থায়ী সভায় বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এম এ ওয়াহিদ রুলু, সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহিন আহমদ, মুজিবুর রহমান রঞ্জু, প্রনিত রঞ্জন দেবনাথ, সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও ভোরের কাগজ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক অবজারভার প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জুসেফ আলী চৌধুরী, নির্মল এস পলাশ।

সভায় বক্তারা বলেন, আব্দুল বাছিত খান একজন নিরিহ প্রকৃতির লোক। সে প্রায়ই সমাজের নানা সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর তুলে ধরে সংবাদ পরিবেশন করছিল। তাছাড়া তার স্বজনদের সাথে জমি নিয়ে ইউপি সদস্য ওয়াতির আলীর বিরোদ্ধে মামলা হলে মামলায় ওয়াতির আলী গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করে। এসব নিয়েও সাংবাদিক আব্দুল বাঁছিত সংবাদ পরিবেশন করে। তার এ কাজের জন্য একটি মহল পেশাদার খুনি ভাড়া করে শনিবার প্রকাশে দিবালোকে কমলগঞ্জ-মুন্সীবাজার সড়কে উভাহাটা এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অপর মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা তিন জন সন্ত্রাসী দা ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতারী ভাবে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সাংবাদিকরা জোর দাবি জানান, অবিলম্বে মূল পরিকল্পনাকারীসহ হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যতায় কমলগঞ্জসহ মৌলভীবাজার জেলার সাংবাদিকরা বড় ধরনের আন্দোলন শুরু করবেন বলে জানান।

এ সম্পর্কে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাতে ও সকালে মোট ৪জনকে থানায় আনা হয়েছিল। এদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে এক প্রবাসীসহ ২জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত তাহির মিয়ার দুই ছেলে আকলিছ মিয়া (৪১) ও মকবুল মিয়া (৩৮) কে সন্দেহ মূলকভাবে রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ সরেজমিন তদন্তসহ আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরও আসামীদের অবস্থান নির্নয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাছাড়া সরকারের অন্যান্য বিভাগও মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত সাংবাদিকের স্ত্রী ও পরিজনরা তার সাথে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে থানায় এখনও কোন মামলা হয়নি। তারপরও পুলিশ তদন্তক্রমে আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা করছে। তারা আশাবাদি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পারবে বলে ওসি জানান।

অন্যান্য খবর পড়ুন